ইডেন ও আমাদের কাপুরুষতা


একটি সমাজের পচন কতো কত গভীর হলে যেখানে মাববতা, সহনশীলতা ও বিবেকবোধ প্রস্ফুটিত হওয়ায় কথা সেখানে জন্ম নেয় এমন এক সুশৃঙ্খলা গ্যাং যাদের কাছে  আদিম বর্বরতাও নস্যি। শুধু তাই নয় এদের শিকড় সমাজের মূলে প্রোথিত এবং সমাজের মুখপাত্র।  আমরা  কোনোদিনই  এই আলো নামক ফোয়ারা থেকে আলো পাব না যতদিন না কৃষ্ণছায়াকে  আবিষ্কার করতে না পারি এবং এর মোকাবিলায় নতুন সূর্য হাজির করতে না পারি। আমরা যে ভোগবাদী শিক্ষা ও জীবন দর্শনকে জীবনের ব্রত  বানিয়েছে তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের এই করুণ অর্জন। আমরা যত বেশি এই পাশ্চাত্য হাদারাহ কে আপন করব তত বেশি আমরা অস্তিত্ব সংকটের মধ্যে পড়ব এবং নিজেদের হারাতে থাকব। এমনকি সত্য, সুন্দর ও আলোর আকাঙ্খা ঘৃণায় পর্যবসিত হবে এবং  এমন একটি প্রজন্ম গড়ে উঠবে যারা সত্য, ন্যায় ও সুন্দরের মোকাবিলায় দাড়িয়ে সমস্ত অব্যবস্থাপনা, অশালীনতা, অনিয়ম, অন্যায় ও অবিচারের ঝান্ডাবাহী হবে।বর্তমানে শিক্ষা নামে যা কিছুর সাথে  আমরা পরিচিত তার সবটুকুই নিজেকে স্বার্থপর, কাপুরুষ, হীন ও আত্মমর্যাদাহীন হয়ে ভোগবাদী সমাজের অধিপতি অথবা নিকৃষ্ট দাস হয়ে জীবন যাপন করা। 

যে শিক্ষালয়  আমাদের আলোকিত করবে সেখানে ঘটে চলেছে আদিম বর্বরতা। এর দায় কার? এর দায় আমাদের সবার বিশেষ করে যারা আমরা নিজেদেরকে তথাকথিত শিক্ষিত মনে করি। সব বর্বরতার নেতৃত্বেতো আমরা এই শিক্ষিতরাই। স্বাধীনতা উত্তর এই লেজুড় ভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে মারামারি, হত্যা, জুলুম, নির্যাতন, ব্যভিচার ও পরাধীন পতিতাবৃত্তি, শ্রেণীবৈষম্য  ও নীতিহীন রাজনীতির জড় ক্রীড়ানক হওয়া ছাড়া  কি অবদান রেখে চলেছে! আবার যারা নম্র ভদ্র লেজ বিশিষ্ট  তাদের কাজ সব বর্বরতা, অন্যায় ও অনাচার  হাস্যবদনে মেনে নেওয়া  এবং সাথে সাথে আমাদের কিউট নারীবাদী ও অধোগতিশীলরা মোক্ষম সুযোগের অপেক্ষায় কখন ও কীভাবে ইসলাম নিকুচি করা যায়। 

আমাদের দেশ  কীভাবে টিকে আছে সেটা বলার জন্য এক বিস্তর গবেষণা করার প্রয়োজন। তবে আমাদের শিক্ষার মৌলিক লক্ষ্য ও মানব সমাজের সুষ্ঠু সংস্কৃতি বিকাশ ও বিপ্লব  ঘটাতে না পারলে এ জাতির ভবিষ্যত কালো মেঘে ঢাকা। তবে তৎপূর্বে আমাদের ফিরে আসতে হবে পাশ্চাত্য সভ্যতা বা হাদারাহ র হেমলক পান করা থেকে।আমাদের নিজস্ব ভাবনা,দর্শন ও চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে ও আমাদের  মূল্যবোধ ঐ পরিমাণ উন্নত করতে হবে যেন কোন যুবতী মেয়ে হীরা থেকে বায়তুল্লাহ পর্যন্ত একাকী সফর করলেও তাঁর দিকে কেউ খারাপ নজরে না তাকাই। একজন বিধর্মী তার যুবতী কন্যাকে নিঃসংকোচে কোন মুসলিম ঘরে রেখে আসতে পারে। কোথায়  হারিয়ে গেল! আমার ম -বোন জাতির প্রতি সম্মানও দায়িত্ববোধ। আমারা কেমন করে আমার মায়ের জাতিকে এত নিকৃষ্ট পণ্যে পরিণত করলাম। হে জমিন! তোমার গর্ভ উন্মোচন কর - আমাকে গ্রাস কর!!

মোঃ আব্দুর রহমান 
গবেষক 

0 Comments:

Post a Comment