আধুনিক প্রজন্মের জন্য ইসলামির দায়ীদের প্রাথমিক করণীয়

 ইসলাম একটি জীবন্ত ও শাশ্বত জীবন ব্যবস্থা। এই সমন্বিত জীবন ব্যবস্থা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জামান থেকে শুরু প্রত্যেকে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানুষের একমাত্র সঠিক সমাধান। কিন্তু নিদারুণ বাস্তবতা হলো বিংশ এবং একা বিংশ শতাব্দীতে ইসলাম তাঁর ঐতিহ্য, আবেদন ধরে রাখতে এবং সভ্যতার সংকটের সমাধান হয়ে হাজির হতে ব্যর্থ হয়েছে। এর কারণ এটা নয় যে ইসলাম এই পরিবর্তিত পৃথিবীর জন্য বাস্তবধর্মী সমাধান নয় বরং যারা বর্তমান ইসলামকে ধারন করে ও এর প্রকাশ, প্রসার, বিকাশ এবং মোলিকত্ব ধরে রাখার নেতৃত্বের আসনে আসীন তাদের উপর‌ই দায় অনেকাংশে বর্তায়। যাইহোক ইসলামকে তার সঠিক ভিত্তি ও রুপ টিকিয়ে রাখার জন্যে ইসলামি দাওয়াত অপরিহার্য।











আল্লাহ  সুবহানাহু তাআলা তাঁর পাক কালামে বলেন - 

وَلۡتَکُنۡ مِّنۡکُمۡ اُمَّۃٌ یَّدۡعُوۡنَ اِلَی الۡخَیۡرِ وَیَاۡمُرُوۡنَ بِالۡمَعۡرُوۡفِ وَیَنۡہَوۡنَ عَنِ الۡمُنۡکَرِ ؕ وَاُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُفۡلِحُوۡنَ                       

 "তোমাদের মধ্যে এমন একটি দল থাকা চাই, যারা (মানুষকে) কল্যাণের দিকে ডাকবে, সৎকাজের আদেশ করবে ও মন্দ কাজে বাধা দেবে। এরূপ লোকই সফলতা লাভকারী।" ( — আল ইমরান -১০৪)


ইসলামে দাওয়াতের প্রশ্নে - বিশেষকরে নতুন প্রজন্মের কাছে- ভাবনার ও কাজের জায়গা অনেক ব্যাপক বিস্তৃত‌ ও অত্যাবশ্যকীয়। ইসলামে দাওয়াতের কর্মীদের সবচেয়ে প্রথম বোঝা প্রয়োজন বর্তমান পৃথিবীকে তথা বর্তমান পরিবর্তিত সমাজের চর্চা, সংস্কৃতি, বোধ ও চেতনা। ইসলাম প্রশ্নে বিশেষকরে ইসলামের দায়ীদের(ব্যাপক অর্থে) সমাজের পরিবর্তনশীল গঠন, সামাজিক সম্পর্ক এবং সংস্কৃতির প্রভাব সম্পর্কে ভালোভাবে বুঝতে হবে। যুব সমাজ, যারা ভবিষ্যতের নেতৃত্ব প্রদান করবে, তাদের ইসলামের প্রতি আহ্বানের প্রেজেন্টেশন কেমন হবে এবং দায়ীদের কি কি মৌলিক বিষয়ের অধিকারী হতে হবে সে বিষয়ে অপরিপক্কতার পরিচয় দেওয়া যাবে না।


দাওয়াতের প্রশ্নে দায়ীদের প্রতিনিধিত্বের সত্যিকার ভূমিকা পালন করতে হবে। কিন্তু প্রতিনিধিত্ব কার হবে, কোন নির্দিষ্ট দলের, মতের কিংবা ব্যক্তির? না, কোন নির্দিষ্ট দল, মত বা দর্শনের প্রতিনিধিত্ব করা যাবেনা বরং প্রতিনিধিত্ব করতে হবে শুধু আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার এবং তার পথ- পদ্ধতি হবে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুন্নাহর মৌলিকত্বকে বজায় রেখে। পুরো পৃথিবীতে ইসলামের যে বিভিন্ন ইসলাম দেখা যায় তার মূলে রয়েছে কোন নির্দিষ্ট মত,পথ কিংবা ইডিওলজিকে প্রতিনিধিত্ব করা বা তার দা‌ওয়াত দেওয়া। আজ ইসলামি সমাজ যে শতধা বিভক্তি বরং তার চেয়ে ঢের বেশি তার প্রধানতম কারণ নিজেদেরকে সংকীর্ণ গোষ্ঠী ও ভাগে ভাগ করে ফেলা এবং প্রত্যেকেই আপন আপন পথ ও মতকে সর্বোত্তম ধরে নিয়ে অন্য মুসলিম ভাইদের পরাজিত করার প্রচেষ্টায় উম্মাহর সব শক্তি ভুল জায়গায় ব্যায় করে ফেলা। আর এভাবেই ইসলাম এখন পৃথিবীর মানচিত্রে বড় জীর্ণ শীর্ণ অবস্থায় প্রতীয়মান। 


যদি ইসলাম বর্গে সংকীর্ণতার জাল ভেদ করা না যায় সাথে সাথে বৈচিত্র্যময় ধরনী কে প্রশস্ত ইসলামে ধারন করা না যায় তাহলে ইসলামের অমানিশা দূর করা শুধুই বাতুলতা হবে। ইসলাম তথা দীন শিখার নির্দিষ্ট পথ, মত ও ব্যক্তি থাকতে পারে এমনকি অনুপ্রেরণা ও গড়নের নির্দিষ্ট মতের ব্যক্তি বা ব্যক্তি সমষ্টি থাকতে পারে এবং সেই মহিমান্বিত ব্যক্তিরা প্রাণের চেয়ে প্রিয় হতে পারে কিন্তু ইসলামের প্রেজেন্টেশনটা বা আহ্বান শুধু ইসলামের‌ই হতে হবে অন্যথায় মুসলিমরা কখনও উম্মাহ হয়ে ওঠে পারবে না। এবং পৃথিবীর বুকে শক্তির কেন্দ্র বিচারণ করতে পারবে না। আর ইসলাম যদি পৃথিবীতে শক্তির কেন্দ্রে না থাকে তবে মানবতা বা মানুষের মুক্তি সুদূর পরাহত। 


বর্তমান প্রজন্মকে ইসলামের অমৃত পান করাতে চাইলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন শ্বাশ্বত সুন্দর ইসলামের প্রেজেন্টেশন। শতধা বিভক্ত ইসলামকে এই প্রজন্ম কখনও গ্রহন করবে না এবং ইসলামের নামে দলবাজি, ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থান্বেষী যে কোন ব্যক্তি বা দলকে এই প্রজন্ম ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলে দিবে। এমনকি বর্তমান প্রজন্ম ইসলামের নামে যে কোন নিষ্ঠুরতা, নৃশংসতা কিংবা সংকীর্ণতা ঘৃণ্য ভরে প্রত্যাখ্যান করবে। এজন্য এক উম্মাহ হিসাবে নতুন প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন হতে হবে ইসলামের অনিন্দ্য সৌন্দর্য নিয়ে। ইসলামের নামে দু-একটি ইসলামের হন্তারক গ্রুপ ছাড়া সব সব ইসলামি দল গোষ্ঠী ইসলামের কল্যাণের জন্য কাজ করে চলেছে। প্রত্যক দলের ত্রুটি বিচ্যুতি থাকা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। ইসলামি দায়ীদের ভিন্ন গ্রুপের ত্রুটি- বিচ্যুতি প্রশস্ত হৃদয়ে ধারণ করতে হবে এবং নিজেদের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুড়ি একবারেই বন্ধ করতে হবে। লিডারশিপ ইন ডিসেন্ট্রালাইজেন মতো ইউনিটি অফ ডিফিরেন্ট গ্রুপ থাকতে হবে কিন্তু কোন ধরনের বিদ্বেষ চর্চা করা যাবে না। 


আমরা যদি ইসলামের এই প্রথম ধাপেই উত্তীর্ণ হতে না পারি পৃথিবীর শক্তির কেন্দ্রে কখন যেতে পারব না এ কথা নিশ্চিত ভাবে বলা যায়। ইসলাম‌ই হলো পৃথিবীর সর্ব শ্রেণী মানুষের জন্য সুন্দর, মানবিক, বৈষম্যহীন বাস্তবিক জীবন ব্যবস্থা। ইসলাম পরাজিত হলে মানুষ হেরে যাবে, পৃথিবী হয়ে ওঠবে জালিম এবং মজলুমের যুদ্ধ খেলার রক্ত মঞ্চ। আর এই নিদারুণ খেলা চলতেই থাকবে। তবে ভুল গেলে চলবে না ইসলামকে জিত‌তে হবে তার শ্বাশত সৌন্দর্য, মহানুভবতা ও মানবতা দিয়ে। এই দায়িত্ব ইসলামের দায়ীদের কাঁধে তুলে নিতে হবে অম্লান বদনে এবং প্রশস্ত হৃদয়ে । আল্লাহ ইসলামি দায়ীদের কবুল করেন। আমীন। 


এই অভিযাত্রায় দায়ীদের সর্বাগ্রে প্রয়োজন হৃদয়ে- মননে, কর্মে  ও যাপনে পরিপূর্ণ আল্লাহকে ধারন করা । আল্লাহর রঙে রঙিন না হলে কখনো অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না। আল্লাহ এটাই বলেছেন- 

          صِبۡغَۃَ اللّٰہِ ۚ وَمَنۡ اَحۡسَنُ مِنَ اللّٰہِ صِبۡغَۃً ۫ وَّنَحۡنُ لَہٗ عٰبِدُوۡنَ —আল বাকারা - ১৩৮


(হে মুসলিমগণ! বলে দাও, আমাদের উপর তো) আল্লাহ নিজ রং আরোপ করেছেন। কে আছে, যে আল্লাহ অপেক্ষা উৎকৃষ্ট রং আরোপ করতে পারে? আর আমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করি।

আল্লাহর রাসূল (সা.)ও একই কথা বলেন, ‘তোমরা আল্লাহর গুণে গুণান্বিত হও’।

সবকিছু কিছুর বিনিময়ে হলেও দায়ীদের আল্লাহর রং ধারণ করতে হবে। রাজা না হলে রাজার মুলক- এ কিভাবে রাজত্ব চালাবে!

Md. Abdur Rahman

Posted in

Spread the love

                                     শিক্ষা কারিকুলামে শিশুদের মনস্তত্ত্বের গুরুত্ব

আমরা সাধারণ মানুষেরা কোনো কিছুর গভীরে না গিয়ে বা উপলব্ধি না করেই নিজের কমন সেন্স দিয়ে সবকিছুতেই একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হ‌ই। এটা সুস্থ ও সর্বাঙ্গীন সমাজের ধারা নয়। সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিথস্ক্রিয়া হলো শিক্ষক - ছাত্রের সম্পর্ক। এই মিথস্ক্রিয়া কেমন হ‌ওয়া উচিত সে বিষয়ে, বিশেষকরে শিক্ষকদের, জ্ঞান থাকা আবশ্যক।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, যারা স্কুল শিক্ষায় অগ্রগামী, ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক থাকে খুবই প্রাণবন্ত ও বন্ধুসুলভ। ঠিক বিপরীতে আমাদের অঞ্চলের শিক্ষকরা ছাত্রদের সঙ্গে একজন প্রশাসক কিংবা জেনারেলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। আমাদের শিশুরা শিক্ষকের ভয়ে তটস্থ থাকে আর শিশুদের এই মানুষিক অবস্থা সৃষ্টিশীলতাকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। জীবনের শুরুতে যে শিশু ভয়ের সংস্কৃতির মধ্য দিয়ে বড় হয় তাদের জন্য সুষ্ঠু ও সুন্দর সমাজের নেতৃত্ব দেওয়া সুকঠিন।
এক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি শিশুদের মনস্তত্ত্বকে গভীরভাবে বুঝা। সেজন্য শিশুমনকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও উপলব্ধি না করতে পারলে কখনোই একজন শিক্ষক শিশুদের শিক্ষক হয়ে উঠতে পারবে না। বরং সে শিক্ষক হয়ে উঠবে স্বৈরাচারী এবং সে নিজের বয়স্ক মন দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনের উপর চালাবে তীক্ষ্ণ তরবারি।
আমরা গতানুগতিকতাকে খুব বেশি ভালবাসি। আমরা যেভাবে দেখেছি, পেয়েছি বা করেছি সেইমতো আমরা চাই, নতুনত্বকে মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের রয়েছে ব্যাপক অনীহা। কারণ গতানুগতার মধ্য আমরা একটা কমফোর্টনেস কাজ করে । আর একারণেই আমরা তৃতীয় বিশ্ব বিশেষকরে মুসলিমরা পৃথিবীতে সামষ্টিক ভাবে একেবারেই ব্যাক-বেন্সার। আমরা শিক্ষকেরা গম্ভীর , রূঢ় ও বদমেজাজি হ‌ওয়াটাই মনে করি ভাল ও মহান শিক্ষকের গুণাবলী‌। আমদের নিজেদের মুখে যেমন প্রাণবন্ত হাসি থাকে না আর না আমরা আমাদের অনিন্দ্য সুন্দর ফুলগুলোর মুখে হাসি বা আনন্দ দেখতে চাই। কী যালেম আমরা !
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার মূল সমস্যা নিয়ে কথা না বলে আমরা আছি অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে। এক জরিপে দেখলাম বাংলাদেশের শিশুরা সবচেয়ে কম শারীরিক অ্যাকটিভিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্কুলে শুধু বর্ণ মুখস্থের বাইরে তাদের আর কোনো শারীরিক অ্যাকটিভিটি বা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর কোনো অ্যাকটিভিটি নেই। যেখানে জাপান, চীন ও অন্যান্য উন্নত দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় শারীরিক কারিকুলাম, কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে সর্বপ্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে; সেখানে আমরা তাদের তুলনায় পড়ে আছি আদিম বর্ণ মুখস্থ প্রথায়।
পৃথিবীর সব দেশ যেখানে কমিউনিটি ও শারীরিক শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রসর সেখানে আমরা আছি তথাকথিত প্রাচীন ধারায় যা শত বছর পূর্বে তখনকার শিশুদের মন‌ও মনন অনুযায়ী। আমাদের শিক্ষকরা সেই আদি কায়দায়ই বাচ্চাদের শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছে, কোনো নতুনত্ব নেই, কোনো ভেরিয়েশন নেই। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুনত্ব আনতে হবে শিক্ষা পদ্ধতিতে। শুধু সার্টিফিকেট নামক কাগজ অর্জনভিত্তিক শিক্ষা দিয়ে ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে টিকে থাকাটা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়বে। এ লক্ষ্যে শিক্ষকদের নানা ধরনের প্রশিক্ষণসহ বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও তাদের এসব বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে হবে; যাতে তারা বাচ্চাদের এসব বিষয়ে সঠিকভাবে শিক্ষা প্রদান করে ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তুলতে পারে।
অভিভাবক যারা আছেন তাদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে, ভবিষ্যৎ পৃথিবী সম্পর্কে। শুধু স্কুলের ওপর সব দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে নিজেরা মুখ ঢেকে বসে থাকলে হবে না। মনে রাখতে হবে, একটি শিশুর প্রথম স্কুল তার পরিবার ও মা-বাবা হয়ে থাকে। গবেষণায় দেখা যায়- উন্নত দেশগুলোতে বাচ্চাদের ওপর নানা ধরনের গবেষণা চালিয়ে তাদের মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ও চাওয়া-পাওয়ার ওপরে তাদের পাঠ্যসূচি নির্মিত হয়, যা ইচ্ছে তাই চাপিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই সেখানে। কারণ তারা এটা খুব ভালোভাবেই জানে যে, এ শিশুরাই বড় হয়ে দেশের ভার কাঁধে নেবে। তাই যাচ্ছেতাই তাদের পড়া আকারে খাওয়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তাই আমাদের দরকার সবার একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা যেন আমরা পেতে পারি একটি ভালো ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা, যা আমাদের বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সাহায্য করবে ইনশাআল্লাহ।


লেখক
মোঃ আব্দুর রহমান
প্রিন্সিপাল
লেকফিল্ড গ্লোবাল স্কুল
Md. Abdur Rahman

Posted in

Spread the love